
আমায় হত্যা করা হয়েছে
মানবতা তার তার,
লজ্জা বেয়াব্রু,
কালখণ্ডের যৌবনের তারণায়,
লোপাট প্রেম বন্ধন ধর্ম।
নিষ্ঠুর কসাইয়ের বেতের আঘাতে,
পাদলা চামড়ায় রক্ত ঝরছে,
সেটা যে কত ঘৃণার,
কত অভিশাপের।
এক সময়
কালো মামড়ি হয়ে শুকিয়ে যাবে,
চেপে রাখবে ভিসুভিয়াসের লাভার মুখ।
লাঞ্ছনা অপমান,
ষড়যন্ত্র দিয়ে জিতে যাওয়া বাজী,
কসায়ের ঠোঁটে উদ্দাম হাসি।
স্বাভিমানে ভরা শরীরটা
একটু ঝুঁকে গেছে হয়তো,
কুঁকড়ে যায়নি।
একপক্ষের সুনানিতে,
বেগমসাহেবার মর্জিতে,
হুজুরের এজলাসে পাশ হয়ে গেছে
সংসার ভাঙার ফরমান।
বরবরিকের মতো কাটা মুণ্ডু নিয়ে দেখলাম,
আমার শিশুটা কখন অনাথ হয়ে গেছে,
আমার সামাজিক প্রেস্টিজ
কখন অচল পয়সা হয়ে গেছে,
আমার তিলতিল ঘামে জড়া স্থাবরগুলো
কখন বিষাক্ত বাতাসে হারিয়ে গেছে।
লালসার ব্যাভিচারের
দুষ্চরিত্রের অট্টহাসিতে
একসময় এ ঘর মাতওয়ারা হবে।
এই সময়
আমি নিঃশব্দে চলে যাচ্ছি,
এই সময়
আমি নতুন যুদ্ধের শঙ্খনাদ বাজিয়ে দিলাম।
আমার ছোট্টো শিশুটা
তীব্র গরলের বাস্পে
ঝাপসা চোখে দেখছে রূপান্তর।
আমায় ফিরতে হবে
স্বাভিমানের রিজুশরিরটাকে নিয়ে
নতুন কুরুক্ষেত্রে,
যেখানে গান্ধারীর চোখের পট্টি খুলে
দেখবে অধর্মের পাখণ্ডীদের দুর্দশা।
আমার লড়াই জারি থাকবে,
জীবন্ত লাশ হয়ে নয়,
উদাসী বাউল হয়ে নয়।
ফিরে আসব আমি,
আমি আমার মতো হয়ে।
কুচক্রী, লোভী, ষড়যন্ত্রীদের
লাগা গরলটা ধুয়ে
শুচি স্নান করে,
ফিরে আসব আমি
গর্ভিত, স্বাভিমান, মর্যাদা নিয়ে।
আমি আমার মতো হয়ে।
লড়াই জারি থাকবে,
অন্ধকার পেরিয়ে আবার
ফিরে আসব আমি—
স্বাভিমান, মর্যাদা আর
নিজের সত্যকে সঙ্গে নিয়ে।
— শঙ্খচূড়
১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩






